নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই কোণঠাসা জ্ঞানেশ কুমার, ইস্তফা ও গ্রেপ্তারের দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি। জানুন ভেতরের খবর।ভারতের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এখন তোলপাড়। দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)-কে কেন্দ্র করে এক অভূতপূর্ব বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন স্বয়ং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। খবর প্রকাশ্যে এসেছে যে, কমিশনের অন্দরেই তাঁর সিদ্ধান্ত ও ভূমিকা নিয়ে প্রবল অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং সহ-কমিশনারদের তরফ থেকে বারবার নীতিগত আপত্তি তোলা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে?
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
১৪ বার লিখিত আপত্তি: রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ মাসে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী—জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া বিভিন্ন একতরফা সিদ্ধান্ত ও আদেশের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার লিখিত নোট ও আপত্তি জানিয়েছিলেন।
একতরফা সিদ্ধান্ত ও কেন্দ্রীকরণ: অভিযোগ উঠেছে, সহ-কমিশনারদের না জানিয়েই ভোটার তালিকা ও প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্মে (ECINet) পরিবর্তন করা হয়েছে এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ডেটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চলেছে।
ফরম ৬-এ পরিবর্তন: ভোটার তালিকায় নাম তোলার ফরম ৬ (Form 6)-এ অনুমোদন ছাড়া নতুন শর্ত যোগ করার বিষয়ে কমিশনাররা কড়া আপত্তি জানান এবং তা ‘বেআইনি’ বলে অভিহিত করেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া
কমিশনের এই অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের খবর সামনে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়েছেন:
১. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে একটি “নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি” হিসেবে আখ্যা দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে গ্রেফতার ও পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
২. বিরোধী শিবিরের তোলপাড়: রাহুল গান্ধী, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব এবং উদ্ধব ঠাকরে সহ ইন্ডি (INDIA) জোটের শীর্ষ নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, কমিশনের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কারচুপি করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়া
দেশজুড়ে বিতর্ক ও জল্পনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন একটি সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করে সাফাই দিয়েছে:
”কমিশনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনে এবং সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়। কোনো খসড়া বা নির্দেশিকা তৈরির সময় কমিশনারদের মতামত বা নোট দেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, যাতে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।”
সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করার দায়িত্ব যে কমিশনের, তার শীর্ষ পদাধিকারীকে ঘিরে সহকর্মীদেরই এমন নজিরবিহীন নোট প্রকাশ দেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে বিরল। এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক মহলেই নয়, দেশের সাধারণ মানুষের মনেও কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। আগামী দিনগুলোতে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই চোখ গোটা দেশের।
