স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে বিস্ফোরক তথ্য! ICU-CCU পরিষেবায় পিছিয়ে কলকাতা ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল। রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকার পরিকাঠামো এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির নিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কমছে না। সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) এবং সিসিইউ (CCU) পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভাব-অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য ভবনের অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনী রিপোর্টে এই চরম অব্যবস্থার করুণ চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মূল্যায়নে একাধিক শীর্ষস্থানীয় মেডিক্যাল কলেজের সামগ্রিক পারফর্ম্যান্স অত্যন্ত উদ্বেগজনক বা ‘খারাপ’ বলে চিহ্নিত হয়েছে।
কোন কোন হাসপাতাল স্বাস্থ্য ভবনের নজরদারিতে?
স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক এই পর্যালোচনী রিপোর্টে নাম রয়েছে উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের:
রাজধানীর শীর্ষ চিকিৎসা কেন্দ্র: কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।
জেলা ও প্রান্তিক মেডিক্যাল কলেজ: উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ, কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ (MJN) মেডিক্যাল কলেজ এবং জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম মেডিক্যাল কলেজ।
কী কী খামতি উঠে এসেছে রিপোর্টে?
রেফারেল ব্যাধি: মুমূর্ষু রোগীকে ভর্তি না নিয়ে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরিত বা ‘রেফার’ করার প্রবণতা বজায় থাকা।
বেড থাকা সত্ত্বেও অসংবেদনশীলতা: পরিকাঠামো ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সচল থাকা সত্ত্বেও সঠিক সময় ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে রোগী ভর্তি না নেওয়া।
সঠিক মনিটরিংয়ের অভাব: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও সিনিয়র টেকনিশিয়ানদের মধ্যে পেশাদার সমন্বয়ের ঘাটতি।
স্বাস্থ্য ভবন ইতিমধ্যেই এই পারফর্ম্যান্স রিপোর্ট সামনে রেখে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ জারি করেছে। মেডিক্যাল কলেজগুলির সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান ও কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পরিকাঠামো ত্রুটি শুধরে আইসিইউ-সিসিইউ পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে সুগম ও সচল করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের প্রান্তিক জেলা থেকে শুরু করে কলকাতার মূল সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতালগুলোতে ক্রিটিক্যাল কেয়ার পরিষেবা উন্নত না হলে সাধারণ মানুষের ভরসার সংকট আরও গভীর হবে, যা স্বাস্থ্য কর্তাদের নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
