হিন্দি পরীক্ষা বাতিল মহারাষ্ট্রে সরকারি কর্মচারীদের, নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কারে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোয় যুগান্তকারী পরিবর্তন এনে সরকারি কর্মচারীদের জন্য দীর্ঘদিনের বাধ্যতামূলক হিন্দি ভাষা পরীক্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি রাজ্যের নিয়োগ পরীক্ষাগুলোতে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং সার্বিক সংস্কারে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের হিন্দি পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত
মারাঠি ভাষা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি আদেশে (GR) স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান প্রশাসনিক ব্যবস্থায় সরকারি কর্মীদের এই হিন্দি পরীক্ষার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ঐতিহাসিক পটভূমি: ১৯৬০ সালে মহারাষ্ট্র রাজ্য গঠনের আগে তৎকালীন বোম্বে সরকার দাপ্তরিক কাজে সুবিধার জন্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য হিন্দি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক করেছিল।
বর্তমান বাস্তবতা: মহারাষ্ট্র সরকারি ভাষা আইন অনুযায়ী এখন রাজ্যের যাবতীয় দাপ্তরিক কাজ মারাঠি ভাষায় পরিচালিত হয়। অন্যদিকে কেন্দ্র ও অন্যান্য রাজ্যের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ইংরেজি।
হিন্দির সীমিত ব্যবহার: প্রশাসনিক কার্যক্রমে হিন্দির ব্যবহার অত্যন্ত নগণ্য হয়ে পড়ায় ভাষা অধিদপ্তর পরিচালিত এই পরীক্ষাটি বন্ধ করা হলো।
কার্যকরের সময়সীমা: এই সিদ্ধান্তটি ২০২৬ সালের ৭ই মে থেকে পূর্ববর্তী তারিখ ধরে কার্যকর করা হয়েছে, যেদিন থেকে এই পরীক্ষা স্থগিত ছিল।
নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আধুনিকীকরণে উচ্চপর্যায়ের কমিটি
সম্প্রতি দেশজুড়ে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন রাজ্যের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে মহারাষ্ট্র সরকার তাদের চাকরি নিয়োগ ব্যবস্থাকে নিটোল করার উদ্যোগ নিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ: মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ তাঁর সরকারি বাসভবন ‘বর্ষা’-য় আয়োজিত এক বৈঠকে নিয়োগ পরীক্ষার সংস্কারে সমন্বিত প্রতিবেদন তৈরিতে একটি উচ্চ-স্তরের কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি কথা: গঠিত কমিটিকে রাজ্যের প্রতিটি রাজস্ব বিভাগে পরিদর্শন করে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শীর্ষ নেতৃত্বের পরামর্শ: বৈঠকে উপস্থিত উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পরীক্ষা পদ্ধতি দুর্নীতিমুক্ত ও মসৃণ করার জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন।
মহারাষ্ট্র সরকারের এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্ত একদিকে যেমন দাপ্তরিক কাজে আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি করল, অন্যদিকে রাজ্য সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের মনে স্বচ্ছ নিয়োগের নতুন ভরসা যোগাল।
