Headlines

বিমানে চড়া এখন আরও সহজ! বাংলার ৪ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর, মেগা প্ল্যান নবান্নের

বিমানে চড়া এখন আরও সহজ! বাংলার ৪ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর, মেগা প্ল্যান নবান্নের বিমানে চড়া এখন আরও সহজ! বাংলার ৪ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর, মেগা প্ল্যান নবান্নের

বিমানে চড়া এখন আরও সহজ বাংলার ৪ জেলায় চালু হচ্ছে নতুন বিমানবন্দর, মেগা প্ল্যান নবান্নের। রাজ্যে বিমান পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল বদলে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন্দ্রের ‘উড়ান’ (UDAN) প্রকল্পের অধীনে যুক্ত হতে চলেছে রাজ্যের চার গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর— পুরুলিয়ার ছররা, পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা, আলিপুরদুয়ারের হাসিমারা এবং দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর নবান্নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে এই সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

​এই চার বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি নতুন ‘এভিয়েশন করিডোর’। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, এই প্রকল্পের ফলে রাজ্যের ঠিক কতটা লাভ হবে? আসুন, সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক এর ইতিবাচক দিকগুলো।

​১. উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলায় দ্রুত যাতায়াত

এতদিন পর্যন্ত কলকাতায় আসা বা দূরপাল্লার ভ্রমণের জন্য পুরুলিয়া বা উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোর মানুষদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন বা বাসে কাটাতে হতো। নতুন এই চারটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর চালু হলে সাধারণ মানুষের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলের সঙ্গে কলকাতার দূরত্ব নিমিষেই কমে আসবে।

​২. শিল্প ও বাণিজ্যে নতুন গতি

শিল্পায়নের প্রধান শর্তই হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা।

​কলাইকুণ্ডা ও ছররা: জঙ্গলমহল ও খনিজসমৃদ্ধ অঞ্চলের কাছে হওয়ায় নতুন শিল্পের বিনিয়োগ টানতে সাহায্য করবে।

​বালুরঘাট ও হাসিমারা: প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ, ভুটান এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

​৩. পর্যটন শিল্পের প্রভূত বিকাশ

পুরুলিয়া ও আলিপুরদুয়ার— রাজ্যের অন্যতম প্রধান দুই পর্যটন কেন্দ্র। অযোধ্যা পাহাড় দেখার জন্য পুরুলিয়ার ছররা বিমানবন্দর এবং ডুয়ার্স বা জয়ন্তী ভ্রমণের জন্য হাসিমারা বিমানবন্দর চালু হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ফলে স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন ব্যবসা দারুণভাবে লাভবান হবে।

​৪. কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক জোয়ার

বিমানবন্দর মানেই কেবল বিমান ওঠা-নামা নয়! এর চারপাশে তৈরি হবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, ট্যাক্সি পরিষেবা, রেস্তোরাঁ, লজিস্টিক হাব এবং নানাবিধ লজিস্টিক সহায়ক ব্যবসা। এর ফলে হাজার হাজার স্থানীয় যুবক-যুবতীর সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাবে।

​৫. সস্তায় বিমানে চড়ার সুযোগ

যেহেতু এটি কেন্দ্রের ‘উড়ান’ (Ude Desh Ka Aam Nagrik) প্রকল্পের অধীন, তাই সাধারণ মধ্যবিত্ত মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখা হবে টিকিটের দাম। ফলে কম খরচে আকাশপথে ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ হবে বহু মানুষের।

​রাজ্যের চার প্রান্তের চার বিমানবন্দর চালু হওয়া কেবল যাতায়াতের সুবিধা নয়, এটি পুরো পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে এক ধাক্কায় অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।২৩ সেপ্টেম্বরের মউ সইয়ের পর এই করিডোর বাস্তবে রূপ নিলে তা বাংলা তথা দেশের মানচিত্রে এক নতুন মাইলফলক তৈরি করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *