আড়াই বছরের অপেক্ষা শেষে চিংড়িঘাটায় বড় সাফল্য এবার সোজা নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ। কলকাতার গণপরিবহন ব্যবস্থায় আসতে চলেছে এক ঐতিহাসিক মোড়। ই.এম বাইপাসের অন্যতম ব্যস্ত মোড় চিংড়িঘাটায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ নিয়ে দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে তার সমাধান হয়েছে। দীর্ঘদিনের জট কাটিয়ে মাত্র ৯০ দিনের এক বিশেষ পরিকল্পনায় দ্রুত গতিতে শেষ করা হলো সবচেয়ে কঠিন নির্মাণ কাজ।
দক্ষিণ কলকাতার সাথে সল্টলেক আইটি হাব ও নিউ টাউনের সরাসরি সংযোগ স্থাপনকারী এই অরেঞ্জ লাইন (কবি সুভাষ থেকে সেক্টর ফাইভ) চালু করা নিয়ে এখন যাত্রীদের মনে প্রবল উৎসাহ।
কীভাবে মিটল আড়াই বছরের জট?
ট্রাফিক ব্লক এবং প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে চিংড়িঘাটার কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। তবে সম্প্রতি প্রশাসন ও কলকাতা মেট্রো কর্তৃপক্ষের যৌথ পরিকল্পনায় প্রায় ৩৬৬ মিটারের ট্র্যাকে দ্রুত গতিতে গার্ডার এবং কংক্রিট ডেক স্ল্যাব বসানোর কাজ শেষ করা হয়েছে।
বর্তমানে কী কাজ চলছে?
উপরিভাগের প্রধান কাঠামো তৈরির কাজ শেষ হওয়ার পর এখন প্রকল্পটিতে চলছে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং:
ট্র্যাকে থার্ড রেল (বিদ্যুৎ পরিবাহী রেল) বসানোর কাজ।
ড্রিলিং, সিগন্যালিং সিস্টেম প্রস্তুত করা এবং সুরক্ষার বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষণ।
খুব শীঘ্রই কমিশনার অব রেলওয়ে সেফটি (CRS) পুরো রুটটি পরিদর্শন করে ট্রায়াল রানের অনুমতি দেবেন।
কবে চালু হতে পারে এই রুট?
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বা বড়দিনের আগেই এই রুটে বাণিজ্যিক মেট্রো চলাচল শুরু করার লক্ষ্য রয়েছে। এই রুট চালু হলে সাধারণ যাত্রীরা কীভাবে উপকৃত হবেন?
দ্রুত যাতায়াত: নিউ গড়িয়া (কবি সুভাষ) থেকে এক ট্রেনে চেপে মাত্র ৩০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ।
যানজট মুক্তি: চিংড়িঘাটার মারাত্মক সড়ক যানজটে আটকে না থেকে যাত্রীরা অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।
প্রযুক্তির অগ্রগতি ও সঠিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে নির্মিত এই মেট্রো রুট খুব শিগগিরই কলকাতা শহরের ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্কে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চলেছে।