Global24plus

খনিতে আর চলবে না চুরি! রেকর্ড সাফল্যের মধ্যেই কয়লা মাফিয়াদের রুখতে নামছে সরকার

খনিতে আর চলবে না চুরি! রেকর্ড সাফল্যের মধ্যেই কয়লা মাফিয়াদের রুখতে নামছে সরকার

খনিতে আর চলবে না চুরি! রেকর্ড সাফল্যের মধ্যেই কয়লা মাফিয়াদের রুখতে নামছে সরকার

খনিতে আর চলবে না চুরি রেকর্ড সাফল্যের মধ্যেই কয়লা মাফিয়াদের রুখতে নামছে সরকার।।কয়লা উৎপাদন এবং ব্যবসায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করল ইস্টর্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই সংস্থাটি স্পর্শ করেছে রেকর্ড লাভের মুখ। একই সঙ্গে খনি অঞ্চলে বেআইনি কয়লা পাচার ও চুরি রুখতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা স্তরে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন।

​এক নজরে ECL-এর পারফর্ম্যান্স ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:

​অর্থনৈতিক সাফল্য: বিগত বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে প্রথম চার মাসেই বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে ECL।

​উৎপাদন বৃদ্ধি: উন্নত প্রযুক্তি এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনার মাধ্যমে কয়লা উত্তোলনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য মিলেছে।

​সরবরাহ শৃঙ্খল: বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও শিল্পক্ষেত্রে নির্বিঘ্ন এবং দ্রুত কয়লা পৌঁছানোর ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

​নিরাপত্তা বলয়: খনি এলাকায় বেআইনি অনুপ্রবেশ ও চুরি বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ।

​প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি: সিসিটিভি, নাইট-ভিশন ড্রোন এবং জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তির সাহায্যে ২৪ ঘণ্টা খনি পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা।

​রেকর্ড লাভের নেপথ্যে মূল কারণগুলি কী?

ইস্টর্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং পরিকাঠামোগত পরিবর্তন। সম্প্রতি কোল ইন্ডিয়ার এই অঙ্গসংস্থাটি ওপেনকাস্ট ও আন্ডারগ্রাউন্ড মাইনিং— উভয় ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। এর ফলে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, তেমনই বৃদ্ধি পেয়েছে সার্বিক ইকোনমিক এফিসিয়েন্সি। এ ছাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে সময়মতো কয়লা পৌঁছানো নিশ্চিত করায় কয়লা বিক্রির পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

​কয়লা চুরি রুখতে সরকারের মেগা প্ল্যান:

কয়লাশিল্পে ইসিএল-এর এই অগ্রগতি ধরে রাখতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বেআইনি কোল মাইনিং এবং সিন্ডিকেট রাজ। কোল মাফিয়াদের দাপট কমাতে এবং রাজস্ব ক্ষতি ঠেকাতে প্রশাসন যৌথ কৌশল গ্রহণ করেছে:

১. কেন্দ্রীয় ও রাজ্য এজেন্সির যৌথ টহল: খনি অঞ্চলগুলিতে ইসিএল-এর নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী (Security Force)-র পাশাপাশি সিআইএসএফ (CISF) এবং স্থানীয় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

২. প্রযুক্তির ব্যবহার: খনি থেকে কয়লা পরিবহনের ক্ষেত্রে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকড ট্রাক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে, যাতে রাস্তায় কয়লা পাচার না হয়।

৩. আইনি কঠোরতা: অবৈধ খনি চিহ্নিত করে তা পুরোপুরি সিল করে দেওয়ার পাশাপাশি বেআইনি কারবারে যুক্ত চক্রের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

​ইসিএল-এর এই সাফল্য ও রাজস্ব বৃদ্ধি সার্বিকভাবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে প্রযুক্তিগত নজরদারি ও কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ বাস্তবে কতটা নিখুঁতভাবে রূপায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে কোল সেক্টরের এই গতি ধরে রাখার ভবিষ্যৎ।

Exit mobile version