কলকাতা ট্র্যাফিক সার্জেন্ট ও সিভিক ভলান্টিয়ার জামশেদপুর খুন মামলায় লালবাজারে যৌথ অভিযান। জামশেদপুরের একটি হাই-প্রোফাইল খুন মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার হলেন কলকাতার এক ট্রাফিক সার্জেন্ট এবং এক সিভিক ভলান্টিয়ার।
অভিযুক্তদের নাম অয়ন গুপ্ত (ট্রাফিক সার্জেন্ট) এবং পিঙ্কেল দাস (সিভিক ভলান্টিয়ার)। কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদের পর দু’জনকেই হেফাজতে নেওয়া হয়।
লালবাজারে আন্তঃরাজ্য অভিযান
জামশেদপুরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের সূত্রে ধরে টেকনিক্যাল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে স্থানীয় পুলিশের নাম উঠে আসে। এরপরই ঝাড়খণ্ড পুলিশের একটি তদন্তকারী দল কলকাতায় পৌঁছায়। দলটি সরাসরি লালবাজারে গিয়ে অয়ন ও পিঙ্কেলকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের উপস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টার যৌথ জিজ্ঞাসাবাদের পর, দুজনকে গ্রেপ্তার করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পান তদন্তকারীরা। রাজ্য সীমানা পেরিয়ে অপরাধীদের সাহায্যকারী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে দু’রাজ্যের পুলিশের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
পলাতক অভিযুক্তদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ
প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, জামশেদপুরের ওই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের জেনে-বুঝে আশ্রয় এবং লজিস্টিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই দুজনের বিরুদ্ধে। তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই অপরাধীরা ঝাড়খণ্ড থেকে পালিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে আশ্রয় নেয়।
পুলিশ বাহিনীতে নিজেদের পদের সুযোগ নিয়ে অয়ন ও পিঙ্কেল এই পলাতক অপরাধীদের অন্য রাজ্যের পুলিশের নজর থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।
ট্রানজিট রিমান্ড ও পরবর্তী তদন্ত
ঝাড়খণ্ড পুলিশ অভিযুক্তদের কলকাতায় স্থানীয় আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাতে অয়ন ও পিঙ্কেলকে জামশেদপুরে নিয়ে গিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে অপরাধমূলক মামলার পাশাপাশি উভয়ের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ বিভাগীয় পদক্ষেপও নেওয়া হবে।
পলাতক অপরাধীদের লুকিয়ে রাখতে আরও কোনো কর্মী বা স্থানীয় প্রতিনিধি যুক্ত ছিলেন কি না, তা বের করতে তদন্তকারীরা কল ডিটেইলস রেকর্ড, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং লোকেশন ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখছেন।
