মাওবাদী দমনে বড় সাফল্য কোটির এনামজয়ী শীর্ষনেতা আকাশ গ্রেফতার। পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মাওবাদী দমনে এলো সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য। দীর্ঘদিন ধরে অধরা থাকা মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বাংলা রাজ্য কমিটির শীর্ষনেতা অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’ অবশেষে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ-এর (STF) জালে ধরা পড়েছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পটাশপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
কোথায় এবং কীভাবে আত্মগোপন করেছিলেন?
দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে জঙ্গলযুদ্ধে যুক্ত থাকা এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তের বেলপাহাড়ী, গুড়াবান্দা এবং দলমা পাহাড়ের জঙ্গলঘেরা এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন। তবে সম্প্রতি বয়সের ভার, উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পাহাড়-জঙ্গলে চলাফেরা করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছিল। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযান এবং সহযোদ্ধাদের গ্রেফতারির পর তিনি কৌশলে জঙ্গল ছাড়েন এবং আত্মগোপন করার জন্য লোকালয়ের গোপন আস্তানাকে বেছে নেন।
কীভাবে এলো সাফল্য?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) ও স্থানীয় পুলিশের দল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান চালায়। গোয়েন্দাদের নিখুঁত নজরদারিতে ধরা পড়ে যান এই ফেরারি নেতা। তাঁর মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা।
এক নজরে অসীম মণ্ডল ওরফে ‘আকাশ’:
মূল বাড়ি: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা থানার ফুলচক গ্রাম।
সংগঠনে যাত্রা: আশির দশকে ছাত্র আন্দোলন দিয়ে শুরু, পরবর্তীতে পিডব্লিউজি (PWG) এবং ২০০৪ সালে সিপিআই (মাওবাদী) গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন।
কিষেণজি-পরবর্তী নেতৃত্ব: ২০১১ সালে জঙ্গলমহলে মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষেণজির মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব চলে যায় আকাশের হাতে।
রাজ্যে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক পুরোপুরি সচল রাখা ও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় আকাশ ছিলেন মূল স্তম্ভ। তাঁর এই গ্রেফতারিকে জঙ্গলমহল থেকে মাওবাদী আন্দোলন পুরোপুরি মুছে ফেলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত আঘাত বলে মনে করছে পুলিশ ও প্রশাসন।
