Headlines

ভারতের প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেনের শেষ ঠিকানা এখন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড

ভারতের প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেনের শেষ ঠিকানা এখন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড ভারতের প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেনের শেষ ঠিকানা এখন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড

ভারতের প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেনের শেষ ঠিকানা এখন স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড। ভারতীয় রেলের ইতিহাসে একসময় যে ট্রেনটি আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই ঐতিহ্যবাহী হাওড়া-ধানবাদ এসি ডাবল ডেকার সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস (১২৩৮৫/১২৩৮৬) অবশেষে ইতিহাসের পাতায় তলিয়ে যেতে চলেছে। দীর্ঘ বহু বছর ধরে হাওড়া ইয়ার্ডে অবহেলায় পড়ে থাকার পর, রেল বোর্ড ট্রেনটির কোচের মেয়াদ শেষ ঘোষণা করেছে। এবার এটিকে চিরতরে স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

চালুর তারিখ: ২০১১ সালের ১ অক্টোবর বিশাল জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের এই প্রথম এসি ডাবল ডেকার ট্রেনের সূচনা হয়।

তৎকালীন সরকার: কেন্দ্রে তৎকালীন ইউপিএ-২ (UPA-II) সরকারের আমলে ভারতীয় রেলে এই বিশেষ ট্রেনটি যুক্ত করা হয়।

কেন ব্যর্থ হলো ভারতের প্রথম এসি ডাবল ডেকার?

​পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি হওয়া এই আধুনিক ট্রেনটির চালুর পর থেকেই কিছু বাস্তবিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল:

​১. অসুবিধাজনক সময়সূচী:

ট্রেনটির চলাচলের সময় যাত্রীদের সুবিধাজনক ছিল না। ধানবাদ থেকে ভোর ৫:০০ টায় ছাড়ার ফলে বহু যাত্রী এটি ধরতে পারতেন না। অন্যদিকে, একই রুটে ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ বা ‘কোলফিল্ড এক্সপ্রেস’-এর মতো ট্রেনগুলো আরও ভালো সময়ে মেলায় যাত্রীরা ডাবল ডেকার এড়িয়ে যেতেন।

​২. যাত্রীর অভাব ও আর্থিক লোকসান:

যাত্রীর সংখ্যা না থাকায় বেশিরভাগ সময় ট্রেনটির আসন ফাঁকাই থাকত (মাত্র ১৩% থেকে ২২% যাত্রী পেত)। এর ফলে প্রতিদিন রেলের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হতে থাকে।

​৩. স্টেশন ও লাইনের পরিকাঠামোগত সমস্যা:

সাধারণ ট্রেনের চেয়ে ডাবল ডেকারের উচ্চতা ও চওড়া বেশি হওয়ার কারণে অনেক প্ল্যাটফর্মের শেড ও ওভারহেড লাইনে ট্রেনটির যাতায়াতে সমস্যা হতো।

​অবশেষে অবহেলার পরিণতি: স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড

​ক্রমাগত আর্থিক ক্ষতির জন্য ২০১৪ সালে ট্রেনটির চলাচলের দিন কমিয়ে দেওয়া হয় এবং ২০১৬ সালের পর ট্রেনটির চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

​বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে হাওড়া ইয়ার্ডে দাঁড়িয়ে থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে ট্রেনটির গায়ে মরচে ধরে যায় এবং যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে। বিকল্প কোনো রুটেও এটিকে চালানো সম্ভব না হওয়ায়, রেল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে এটিকে  স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *