Headlines

ভুয়ো সার্টিফিকেটে ডাক্তারির অনুমোদন! তোলপাড় স্বাস্থ্য ভবন

ভুয়ো সার্টিফিকেটে ডাক্তারির অনুমোদন! তোলপাড় স্বাস্থ্য ভবন ভুয়ো সার্টিফিকেটে ডাক্তারির অনুমোদন! তোলপাড় স্বাস্থ্য ভবন

ভুয়ো সার্টিফিকেটে ডাক্তারির অনুমোদন তোলপাড় স্বাস্থ্য ভবন। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের ‘ভুয়ো’ নথি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে বহাল তবিয়তে চিকিৎসা চালানোর অভিযোগ উঠল দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই গুরুতর ঘটনার কথা সামনে আসতেই চরম শোরগোল পড়েছে রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে। উত্তর ২৪ পরগনা ও বর্ধমান—দুই জেলাতেই দীর্ঘদিন ধরে দাপিয়ে প্র্যাকটিস করছিলেন এই দুই ‘ভুয়ো’ চিকিৎসক।

​প্রশ্ন উঠছে, কোন জাদুবলে প্রয়োজনীয় নথি সঠিকভাব পরীক্ষা না করেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল দুজনের জন্য আলাদা রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করল? সার্বিক গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য ভবনে নালিশ জানানো হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন এবং সমগ্র বিষয়টি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর।

​স্বাস্থ্য ভবনে অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশ

​রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে স্বনামধন্য এই নিয়ামক সংস্থা আবেদনকারীদের জমা দেওয়া সার্টিফিকেটগুলোর আসল ভিত্তি যাচাই করল না, তা নিয়ে চিকিৎসকমহলেই ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, “অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

​বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের যৌথ সংগঠনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের তরফ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। রোগী সুরক্ষার খাতিরে ও চিকিৎসার মতো জরুরি পরিষেবার গুণমান বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

​বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের বিস্ফোরক জবাব

​মামলার সত্যতা যাচাই করতে এবং মূল সার্টিফিকেটের সত্যতা জানতে সরাসরি বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজ্য নার্সিংহোম সংগঠন। বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয় যে, অভিযুক্ত দুই চিকিৎসকের পেশ করা নথিপত্র আদৌ বৈধ কি না।

​চিঠির জবাবে বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয় যে, যে সমস্ত সার্টিফিকেট দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তার হিসেবে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ জালিয়াতি করা। অর্থাৎ বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এমন কোনো সার্টিফিকেট ইস্যুই করা হয়নি।

​রোগী সুরক্ষায় উঠছে বড় প্রশ্ন চিহ্ন

​এই ধরনের ‘ভুয়ো’ চিকিৎসকরা সাধারণ রোগীদের জীবন নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলছিলেন, তা সামনে আসায় স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় ঢিলেঢালা মনোভাব নাকি স্বজনপোষণ, কোন ফাঁক দিয়ে জাল সনদ থাকা সত্ত্বেও রেজিস্ট্রেশন মিলল, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ।

​বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের এক সদস্য জানান, “যদি মেডিক্যাল কাউন্সিলের মতো সংস্থাই নথিপত্র ঠিকমতো পরীক্ষা না করে রেজিস্ট্রেশন দিয়ে দেয়, তবে সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক ও ভুল চিকিৎসক চেনা অসম্ভব হয়ে পড়ে।” স্বাস্থ্য দফতরের তদন্ত রিপোর্ট আসার পরই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই তাকিয়ে সব মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *