তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার দমদমের প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান বরুণ নট্ট। তাঁর পাশাপাশি এই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ও সুমন্ত ঘোষ নামের দুই সহযোগীকেও।
গতকাল দমদম থানায় এই সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, দীর্ঘ দিন ধরে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় এবং জমি সংক্রান্ত প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৎপর হয় দমদম থানার পুলিশ। বরুণ নট্ট, নয়নাশিস দাস ও সুমন্ত ঘোষ—তিন জনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার তোলাবাজি, জালিয়াতি, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তিন জনের বাড়ি ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ বাহিনী। গভীর রাতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
দমদমের প্রাক্তন উপ পুরপ্রধান গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধীদের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই দমদম ও সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটিং, জমি দখল এবং সিন্ডিকেট রাজের নামে এই তোলাবাজি চলছিল।
অন্যদিকে, স্থানীয় শাসকদলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে আইন তার নিজের পথেই চলবে। দল কোনও রকম বেআইনি কর্মকাণ্ড বা অপরাধমূলক আচরণকে সমর্থন করে না।
পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
দমদম থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া তিন জনকে আজই ব্যারাকপুর আদালতে পেশ করা হবে। অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানাবে পুলিশ।
তদন্তকারীদের অনুমান, এই তোলাবাজি ও প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকতে পারে। মূল অভিযুক্তদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নতুন বহু তথ্য সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ প্রশাসন সাধারণ মানুষকে আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছে, তোলাবাজি বা জালিয়াতির মতো ঘটনায় কাউকেই রেয়াত করা হবে না। ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের হুমকির মুখে পড়লে সরাসরি থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।