Headlines

চলন্ত ট্রেনে সুটকেস ভর্তি লাশ, ২ পলাতরহস্যেরজালেক অভিযুক্ত

News আগ্রা এক্সপ্রেসে সুটকেস ভর্তি দেহাংশ উদ্ধার: ৩ রাজ্য ছড়ানো এক রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের গল্পআগ্রা এক্সপ্রেসে সুটকেস ভর্তি দেহাংশ উদ্ধার

​হাড়হিম করা অপরাধের খবর আমরা প্রায়শই টিভিতে বা খবরের কাগজে দেখে থাকি। কিন্তু সম্প্রতি ভারতের তিন রাজ্য জুড়ে ঘটে যাওয়া এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো দেশকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। ট্রেনের কামরায় ফেলে রাখা এক পরিত্যক্ত সুটকেস থেকে শুরু হওয়া তদন্তের জট এখন গিয়ে পৌঁছেছে তামিলনাড়ুর চেন্নাই শহর পর্যন্ত।

রেলস্টেশনে উদ্ধার পরিত্যক্ত লাল সুটকেস

​ঘটনার সূত্রপাত আগ্রা ক্যান্ট রেলস্টেশনে। তামিলনাড়ু এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি সাধারণ কামরায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল একটি লাল রঙের ট্রলি ব্যাগ। দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সহযাত্রী এবং রেল কর্মচারীদের সন্দেহ হয়। পুলিশ এসে সুটকেসটি খুলতেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড়—ভেতরে খণ্ডিত এবং পচা-গলা মানবদেহাংশ!

​ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো রেলস্টেশন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উত্তর প্রদেশ পুলিশ অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজ ও শিকারের পরিচয় উদ্ধার

​তদন্তে নেমে পুলিশের প্রথম বড় সূত্র আসে চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনের চার নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ থেকে। ভিডিওতে দেখা যায়, এক পুরুষ এবং এক নারী প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনকভাবে ওই একই লাল রঙের সুটকেস নিয়ে ঘোরাঘুরি করছে। তারা ব্যাগটি ট্রেনের কামরায় রেখে ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগেই চতুরতার সঙ্গে কেটে পড়ে।

​মৃতদেহের আঙুলের ছাপ এবং অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়। নিহতের নাম হায়াতুন নিশা (৩৮)। তিনি ওড়িশার জগৎসিংহপুর জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে বসবাস করতেন।

চেন্নাইয়ের গোপন ডেরায় পুলিশের অভিযান

​সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তামিলনাড়ু পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত পৌঁছায় চেন্নাইয়ের গুডুভাঞ্চেরি এলাকায়। নিহতের ভাড়া নেওয়া ওই বাড়িতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে আরও এক ভয়ংকর সত্য। ঘরের ভেতরে থাকা একটি বড় বাক্সের মধ্যে মেলে আরও কিছু পচা-গলা মানবদেহাংশ।

​ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা, আগ্রায় ট্রলি ব্যাগে পাওয়া দেহাংশ এবং চেন্নাইয়ের ঘরে উদ্ধার হওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একই ব্যক্তির। তবে চূড়ান্ত নিশ্চিত হওয়ার জন্য উদ্ধার করা দেহাংশের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পলাতক দুই সন্দেহভাজন: পুলিশের চিরুনি অভিযান

​এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মানিক উদ্দিন লস্কর (আসামের বাসিন্দা) এবং ভগবতী মাঝি (ওড়িশার বাসিন্দা) নামে দুই ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তারা নিহতের সঙ্গেই চেন্নাইয়ের ওই ভাড়া বাড়িতে থাকত। ঘটনার পর থেকেই দুজন গা-ঢাকা দিয়েছে।

​বর্তমানে উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং ওড়িশা পুলিশের যৌথ দল একাধিক সম্ভাব্য ডেরায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। কী উদ্দেশ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড চালানো হলো, তা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের পরই পরিষ্কার হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial