মার্কিন-ইরান মুখোমুখি, লাফিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম এক মাসের নীরবতা ভেঙে মধ্যপ্রাচ্যে ফের শুরু হয়েছে মার্কিন-ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাত। মার্কিন বাহিনী ইরানের রকেট লঞ্চারে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে জর্ডানের মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে তেহরান। দুই দেশের এই সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে—গতকালই অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অভিযান
ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) লারাক দ্বীপের কাছে ইরান সমর্থিত বাহিনীর দুটি রকেট লঞ্চার ধ্বংস করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে মাইন ও রকেট হামলার ছক কষেছিল। আন্তর্জাতিক জলপথে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতেই এই আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরানের পাল্টা হামলা ও ক্ষয়ক্ষতি দাবি তেহরানের , যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলায় সেনা সদস্যদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর জবাবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড (IRGC)। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তত ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথেই ধ্বংস করে। তবে এই হামলায় মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
তেলের বাজারে তীব্র প্রভাব সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দামে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। ফলে এই অঞ্চল অশান্ত হতেই অপরিশোধিত তেলের দাম এক দিনে ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি করছে।
মূল তথ্য ও পরিসংখ্যান
মার্কিন অভিযান:লারাক দ্বীপে ইরানের ২টি রকেট লঞ্চারে নিশানাবদ্ধ
হামলাইরানের পাল্টা:পদক্ষেপজর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ
আকাশ প্রতিরক্ষা:জর্ডান সীমান্তে ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের দাবি
জ্বালানি বাজার: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২%-এর বেশি বৃদ্ধি
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা:হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট। এই অঞ্চলে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক পেট্রোলিয়াম সরবরাহ ব্যাহত হবে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ও পরিবহণ খরচ অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে। এক মাসের শান্ত পরিবেশের পর এই রেষারেষি প্রমাণ করে যে অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর।