Headlines

এনসিপিআই-বিজেপি জোট জল্পনায় সরগরম বাংলার রাজনীতি

এনসিপিআই-বিজেপি জোট জল্পনায় সরগরম বাংলার রাজনীতি এনসিপিআই-বিজেপি জোট জল্পনায় সরগরম বাংলার রাজনীতি

আসন্ন পুরভোটের আগেই নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অলিন্দ। প্রবীণ এনসিপিআই (NCPI) সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার সহ-দলীয় সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও কলকাতা পুরভোটে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে জোট গড়ে লড়ার পক্ষে সওয়াল করলেন।

তবে এই জোট প্রস্তাবে শুরুতেই দুটি বড় বাধা তৈরি হয়েছে—একদিকে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একলা চলার অনড় অবস্থান, অন্যদিকে এনসিপিআই-এর নিজস্ব অন্দরেই সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহেরের তীব্র বিরোধিতা।

জোটের প্রস্তাব ও বিজেপির স্পষ্ট জবাব

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ ধরে এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বিজেপির সঙ্গে যৌথ ফ্রন্ট গড়ে লড়ার বার্তা দিতেই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে ওঠে। তাঁদের দাবি, জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের (এনডিএ) ব্যানার তলে লড়াই করলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দেওয়া অনেকটাই সহজ হবে।

তবে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব মুহূর্তের মধ্যেই এই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। প্রবীণ বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা দলের অফিসিয়াল অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বাংলার মানুষ বিজেপিকে একক শক্তি হিসেবেই দেখতে চায়।

“বাংলার মানুষ আমাদের এককভাবেই দেখতে চায়। আমাদের সাংগঠনিক শক্তি এবং পূর্ববর্তী নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বলছে, পুরভোটে লড়ার জন্য আমাদের কোনও প্রাক-নির্বাচনী আসন সমঝোতার প্রয়োজন নেই।”

— রাহুল সিনহা, প্রবীণ বিজেপি নেতা

পাশাপাশি সুকান্ত মজুমদারের মতো বিজেপি নেতারাও বজায় রেখেছেন যে, এনসিপিআই-এর সঙ্গে পুরভোটে আসন সমঝোতা নিয়ে রাজ্য স্তরে কোনও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি।

এনসিপিআই-এর অন্দরে গৃহযুদ্ধ

নেতৃত্বের বিজেপি-প্রীতির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে এনসিপিআই-এর অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছেন দলটির সংখ্যালঘু সাংসদরা। মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের বিজেপি জোটের সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন।

এনসিপিআই-এর অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রধান দিকগুলি:

আদর্শগত মতপার্থক্য: আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠানের মতো সংখ্যালঘু সাংসদরা এনডিএ-র সঙ্গে কোনওরকম সমঝোতার তীব্র বিরোধিতা করছেন।

প্রকাশ্য বিরোধ: আবু তাহের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা কোনওমতেই বিজেপি করছি না, করব না।”

দল ভাঙনের আশঙ্কা: দলের ২০ জন সাংসদের মধ্যে এই টানাপোড়েন পুরভোটের প্রচার শুরু হওয়ার আগেই এনসিপিআই-এর ঐক্যকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও দূরগামী প্রভাব

রাজনৈতিক কৌশলের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে, এনসিপিআই নেতৃত্ব এবং বিজেপি রাজ্য ইউনিটের এই মতপার্থক্য জোট রাজনীতির একটি চিরাচরিত বাস্তবতা তুলে ধরে:

১. দলীয় ভাবমূর্তি বনাম রাজনৈতিক বাস্তবতা: তৃণমূল থেকে বেরিয়ে আসা একদল নেতার সঙ্গে হাত মেলালে বিজেপির দীর্ঘদিনের দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি ধাক্কা খেতে পারে, যা তাদের মূল ভোটব্যাংককে ক্ষুব্ধ করতে পারে।

২. জোটের অঙ্ক: এনসিপিআই নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় প্রভাব বিস্তার করলেও, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এনডিএ হাইকম্যান্ডের কাছে তাদের দরকষাকষির ক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।

৩. নির্বাচনী অস্তিত্বের সংকট: বিজেপি যদি শেষ পর্যন্ত জোটে রাজি না হয় এবং একই সঙ্গে এনসিপিআই তাদের সংখ্যালঘু অংশটিকে হারিয়ে ফেলে, তবে কলকাতা পুরসভার মতো পুরসভাগুলিতে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

পুরভোটের দিনক্ষণ যত এগিয়ে আসছে, এনসিপিআই নেতৃত্বের সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ তীব্র হচ্ছে—একদিকে অনড় বিজেপিকে রাজি করানো, অন্যদিকে নিজেদের সংসদীয় দলটিকে ধরে রাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *